হাল ছেড়ে দেওয়ার মনোভাবের দিকে তাকাই
প্রকাশের তারিখ হালনাগাদের তারিখ
তোমার হৃদয়ের ভেতরে তাকাও।
নানা রকম সত্তা দেখতে পাচ্ছ, তাই না?
তাদের মধ্যে আজ “হাল ছেড়ে দেওয়া” ধরনের চিন্তার ওপর আলো ফেলি।
নিজের প্রতি হাল ছেড়ে দেওয়া।
অন্যদের প্রতি হাল ছেড়ে দেওয়া।
সমাজের প্রতি হাল ছেড়ে দেওয়া।
নিজের পরিস্থিতির প্রতি হাল ছেড়ে দেওয়া।
নিজের চেহারার প্রতি হাল ছেড়ে দেওয়া।
নানা রকম হাল ছেড়ে দেওয়া আছে, তাই না?
তাদের প্রত্যেকটির দিকে ভালো করে তাকাও।
“এর কারণে আর কিছু করার নেই।”
“ওর কারণে আর কিছু করার নেই।”
দেখতে পাচ্ছ, সেই হাল ছেড়ে দেওয়ার চারপাশে নানা রকম অজুহাত ঘুরপাক খাচ্ছে।
সেই অজুহাতগুলোর দিকে ফিরেও না তাকিয়ে, সেখানে বসে থাকা হাল ছেড়ে দেওয়ার পিণ্ডটির দিকে তাকাও,
আর তার পেছনের আরও গভীরের অনুরণনের দিকে।
যেমন, অন্যদের প্রতি হাল ছেড়ে দেওয়ার পিণ্ডটির দিকে তাকাই।
ওই মানুষটার ব্যাপারে তুমি হাল ছেড়ে দিয়েছ কেন?
হ্যাঁ, হ্যাঁ।
জানি, বুঝি।
তুমি চাও এটা ওই মানুষটার দোষ হয়েই থাকুক।
কারণ তাহলে তুমি তোমার অহংকে রক্ষা করতে পারো।
কিন্তু ঠিক সেখানে তলপেটে জোর দিয়ে আরও গভীরে তাকাও।
হুম? দেখতে পাচ্ছ?
নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা একটা চিন্তা আছে।
কিন্তু সেটা নয়।
হৃদয়ের চোখ আরও গভীরে নিয়ে যাও।
দেখো, এবার দেখতে পাচ্ছ, তাই না?
নিজের ব্যাপারে হাল ছেড়ে দেওয়া চিন্তার এক পিণ্ড….
এই পর্যায়ে যা বলা যায় তা হলো, যারা অন্যদের ব্যাপারে হাল ছেড়ে দিয়েছে, তারা নিজেদের ব্যাপারেই হাল ছেড়ে দিয়েছে।
কিন্তু তুমি এটাও দেখতে পাচ্ছ যে নিজের ব্যাপারে হাল ছেড়ে দেওয়ারও এক সংশ্লিষ্ট কারণ আছে, তাই না?
তাই হৃদয়ের আরও গভীরে তাকাই।

চোখ বন্ধ করো।
ধীরে শ্বাস নাও।
কল্পনা করো তোমার পুরো ধড়টাই ফুসফুস, আর বড় করে, গভীরভাবে, স্বচ্ছন্দে শ্বাস নিতে থাকো।
দেখো, এবার দেখতে পাচ্ছ, তাই না?
আত্মসীমাবদ্ধ চিন্তার এক পিণ্ড….
এটা সেই চিন্তার অভ্যাস যা ঠিক করে দেয়, “আমার দৌড় এটুকুই।”
কিন্তু আরও ভেতরে আরও কিছু আছে।
আত্মার গভীরে নীরবে হৃদয়কে থিতু করো।
মহাকাশ থেকে পৃথিবীর দিকে আসতে আসতে যেভাবে মাটির খুঁটিনাটি দেখো, সেভাবে হৃদয়ের গভীরে তাকাও।
ওই যে।
আত্ম-অস্বীকার।
সেটা কী? সেটা হলো সেই চিন্তার অভ্যাস যা প্রাণের সারসত্তা দিব্যতাকে অস্বীকার করে।
নিজের মৌলিক পরিচয়ের এই অস্বীকার, দিব্যতার অস্বীকারই হলো তোমাকে হাল ছাড়িয়ে দেওয়া চিন্তার অভ্যাসের আসল পরিচয়।
তা খুঁজে পেলে নিজেকে ভাবো সেই সূর্য, যে পথিককে তার আলখাল্লা খুলিয়ে নেয়, আর অস্বীকার করতে চাওয়া চিন্তাটিকে আলিঙ্গন করো।
এটা যেন দীর্ঘদিন ধরে তোমার হৃদয়ে থাকা চিরতুষার, তাই প্রাণের উষ্ণতা দিয়ে আলিঙ্গন করে উষ্ণ করলে তা নিশ্চয়ই গলে গিয়ে প্রকৃতি বদলাবে, কঠিন থেকে তরলে, তরল থেকে গ্যাসে।
যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো জানা যে তোমার প্রাণের সারসত্তা অনেক অনেক আগে, একেবারে শুরু থেকেই ভালোবাসার আলো নিজেই।
আর ভালোবাসার আলো ছড়িয়ে বাঁচা।
পার্থিব পরিমণ্ডলে মানুষের মিশন নিহিত আছে প্রাণের সেই সারসত্তা মসৃণভাবে প্রকাশ করতে পারা এক সত্তা গড়ে তোলায়।
কোনো কিছুতেই হাল ছেড়ো না।
হাল না ছাড়লে পথ নিশ্চয়ই খুলে যাবে।
কিন্তু যখন হাল ছেড়ে দিতে ইচ্ছা করে, তখন কেবল আজকের মতো হৃদয়ের গভীরে তাকাও, আসল কারণ খুঁজে বের করো, আর তাকে আলিঙ্গন করো।
যতবার লাগে, বারবার আলিঙ্গন করো।
কোনো কথার দরকার নেই।
কিছু ভাবতেও হবে না।
কেবল ভালোবাসার আলো হয়ে চিন্তার পিণ্ডটিকে জড়িয়ে উষ্ণ করো।
তখন তথাকথিত চিন্তার অভ্যাসগুলো কখন যে মিলিয়ে যাবে টেরও পাবে না, আর প্রাণের অন্তর্নিহিত সত্য, মঙ্গল ও সৌন্দর্য তোমার চেতনা নিজেই হয়ে দেখা দেবে।






