পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাত্রিক উত্তরণ – ২
প্রকাশের তারিখ হালনাগাদের তারিখ
(আগের বারের পর থেকে)
পৃথিবীতে জানা দৃষ্টি ও শ্রবণের বর্তমান অবস্থা আর সামনের চ্যালেঞ্জ
তো, আমি তোমাকে বলেছিলাম যে চেতনাকে মাত্রায় উন্নীত করায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে যে ইন্দ্রিয়, তা হলো দৃষ্টি, তাই না?
পৃথিবীর বিজ্ঞানের জগতেও দেহধারী মানুষের দৃশ্যমান পরিসর (চোখে দেখা যায় এমন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর) নিয়ে গবেষণার ফল বেরিয়েছে।
গবেষণাভেদে কিছুটা তারতম্য আছে, কিন্তু বলা হয় যে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সীমা প্রায় ৩৮০ nm (ন্যানোমিটার) আর লম্বা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সীমা প্রায় ৭৮০ nm, তাই না?
সেই তথ্য দেখায় যে, মহাবিশ্বে থাকা নানা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের মধ্যে দেহধারী মানুষের চোখে দেখা যায় এমন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসর কেবল ছোট্ট এক অংশেই সীমাবদ্ধ।
শ্রবণযোগ্য পরিসর নিয়েও ব্যক্তিভেদে পার্থক্য আছে, কিন্তু বলা হয় তা মোটামুটি ২০ Hz (হার্জ) থেকে ২০,০০০ Hz, তাই না?
তা থেকে যা বোঝা যায় তা হলো, তুমি তোমার ভৌত ইন্দ্রিয় দিয়ে যা দেখো আর শোনো, তা সমগ্র মহাবিশ্বের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসরের কেবল এক ক্ষুদ্র অংশ।
তোমাদের জগতে এখনো সব তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি, আর এই অব্যাখ্যাত তরঙ্গদৈর্ঘ্যগুলোর রহস্য উদ্ঘাটন করাই পৃথিবীর বিজ্ঞানের সামনের চ্যালেঞ্জ।
আর সেই অজানা স্পন্দন আর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসরের রহস্য উদ্ঘাটনের মিশন নিয়ে পৃথিবীতে নেমে আসা মানুষেরা এর মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে আছে।
তাই এখন থেকে সেই মানুষেরা যে নানা অজানা তথ্য উন্মোচন করবে, তার মধ্য দিয়ে অচিরেই এক আধ্যাত্মিক সভ্যতার দরজা সবার জন্য খুলে যাবে।
প্রমিত বর্ণালি আলোক দক্ষতা
অজানা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসরের রহস্য উদ্ঘাটনের হাতিয়ার মানবজাতির কাছে এর মধ্যেই আছে
কিন্তু জানো, সেই অজানা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পরিসরের রহস্য উদ্ঘাটনের অপরিহার্য হাতিয়ারটি আসলে এমন কিছু যা প্রত্যেক মানুষের কাছে একেবারে শুরু থেকেই আছে।
তা হলো হৃদয়ের চোখ। বলা যায় “দৃষ্টির মাত্রিক উত্তরণ”-ই চাবিকাঠি।
হৃদয়ের চোখকে পুনর্জাগ্রত করেননি এমন গবেষক আর বিজ্ঞানীরা যত আন্তরিকভাবেই কাজ করুন না কেন, এমনকি অজানা তরঙ্গদৈর্ঘ্য ধরার কোনো যন্ত্র বানালেও, তাঁদের ধরার পদ্ধতি সমতল এক উপলব্ধিই থেকে যাবে।
সমতল উপলব্ধি থেকে যাওয়া মানে এ পর্যন্ত এই জগতের বিষয়গুলো দেখা ও বোঝার প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যেই থাকা, যেখানে যা দেখা যায় তা-ই সবকিছু।
যা দেখা যায় তাতে আঁকড়ে থাকা চেতনার সেই পরিমণ্ডলে থেকে গেলে, তা অজানা তরঙ্গদৈর্ঘ্য ধরার দিকে নিয়ে যায় না।
কারণ অজানা তরঙ্গদৈর্ঘ্য যে পরিসরে আছে, তা তোমার ভৌত ইন্দ্রিয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে অন্য এক মাত্রার জগৎ (স্পন্দন-পরিমণ্ডল)।
তুমি দেখতে পাচ্ছ, তাই না, যে এই জগৎই সবকিছু ভাবা এক মাথা দিয়ে অন্য মাত্রার স্পন্দন-পরিমণ্ডলের তরঙ্গদৈর্ঘ্য জানার যত চেষ্টাই করো না কেন, সেই বদ্ধমূল ধারণা নতুন করে না সাজালে অজানা তরঙ্গদৈর্ঘ্য বুঝতে পারবে না।
তা হবে হাতির লেজ ধরে ঝুলে থাকা আর আঁকড়ে থাকার মতো, আসলে কেবল সামনের লেজটুকুই চেনা, অথচ গর্ব করে বলা, “আমি হাতি আবিষ্কার করেছি। এটাই হাতির সবটা।”
ঠিক সেখান থেকেই কথা মোড় নেয় হৃদয়ের চোখ বিকশিত করা কত গুরুত্বপূর্ণ সেদিকে।
(চলবে)






