আবেগের শুদ্ধিকরণ (প্রথম পর্ব)
প্রকাশের তারিখ হালনাগাদের তারিখ
★আবেগের শুদ্ধিকরণ প্রসঙ্গে
“মানুষ নামের প্রাণী এমন এক প্রাণী, যার জন্য নিজের আবেগময় চিন্তাকে শুদ্ধ করতে পুরো জীবন ব্যয় করাও সার্থক।” অন্তর্জগতে প্রায়ই এ কথা বলা হয়।
এটা সবার ক্ষেত্রেই খাটে, তবে বিশেষ করে যাদের চেতনা আঠালো, তাদের জন্য ঠিক এ কাজেই পুরো জীবন ব্যয় করা সার্থক।
আর সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষকে মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
তুমি কি জানো সেগুলো কী?
যাদের চেতনা মসৃণ আর অবাধে বয়ে চলে, আর যাদের চেতনা আঠালো।
এখানে আমরা স্পষ্ট করে যা বলতে পারি তা হলো, যাদের চেতনা মসৃণভাবে বয়ে চলে, তারা ভবিষ্যতের জন্য মন্দ কারণের বীজ না বোনার সম্ভাবনাই বেশি।
অন্যদিকে, যাদের চেতনা মসৃণভাবে বয় না, তারা মিলিয়ে যাওয়ার জন্য কার্মা হিসেবে উপরিতলে উঠে আসা নিয়তিকে আবার হৃদয়ের গভীরে জমিয়ে রাখে, ফলে সেই মুহূর্তে তারা ভবিষ্যতের দিকে মন্দ কারণের নতুন বীজ ছড়িয়ে দেয়।
সেক্ষেত্রে, মাটিতে বীজ পুঁতে পুষ্টি দিলে যেমন সময় হলে ফুল ফোটে আর ফল ধরে, তেমনি তোমার বোনা নিয়তির বীজও একদিন ফল ধরে প্রকাশ পাবে।
গত কয়েক দশ হাজার বছর ধরে পৃথিবীর মানবজাতির গতিবিধির দিকে তাকালে, অনেক মানুষ… না, বলা যায় যে “প্রায় সবাই সেই দুঃখের চক্রের মধ্যেই বেঁচেছে, এ কথা বললে অত্যুক্তি হয় না।”
…
এবার যথেষ্ট হয়েছে।
তুমি যথেষ্ট পরিশ্রম করেছ।
একে অন্যের সঙ্গে ঘষাঘষি, সংঘাত, আর শেষে একে অন্যকে অভিশাপ দেওয়া, ঘৃণা করা, এমনকি রক্তপাত পর্যন্ত গড়ানোর ইতিহাস থেকে এবার উত্তীর্ণ হওয়ার সময় হয়েছে।
আর অন্যদের দিকে না হলেও, হীনম্মন্যতা, আত্মঅস্বীকার আর আত্মসীমাবদ্ধতার ফলা নিজের দিকে তাক করাও এবার তুমি ছেড়ে দিতে পারো।
কী?
“আমি কাউকে অভিশাপ দিই না, কাউকে ঘৃণাও করি না। আর কাউকে মেরে ফেলার তো প্রশ্নই ওঠে না,” বলছ?

★তোমার অন্তর্জগতের প্রতিফলন হিসেবে অন্যেরা
হ্যাঁ, এটা সত্যি যে তোমার দৈহিক কথা আর কাজে তুমি এমন কিছু করো না।
কিন্তু তোমার হৃদয়ের ভেতরে?
অন্যদের দেখে এটা-ওটা ভাবার সময় তোমার মনে যে চিন্তার অবস্থাগুলো ভেসে ওঠে, সেখানে কি তুমি ঘোষণা করতে পারো যে এমন কিছু করো না?
চলো শান্তভাবে ভেবে দেখি।
যেমন ধরো, তুমি রাস্তা দিয়ে হাঁটছ, পাশ দিয়ে যাওয়া মানুষটি ভুরু কুঁচকে নিজের মনে বিড়বিড় করুক বা খুশিমনে গুনগুন করতে করতে চলে যাক, যদি কোনো মন্দ কার্মিক বন্ধন না থাকে, তাহলে এটা এমন কিছু নয় যা তোমাকে লঙ্ঘন করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তুমি তাদের নিয়ে এটা-ওটা ভাবো, তাই না?
তাড়াহুড়োর সময়ের কথা বাদ দিলে, অবসরে ধীরেসুস্থে হাঁটার সময় তুমি কি অজান্তেই অন্য মানুষদের বিচার করো না?
তুমি যদি সব মানুষকে আলোর সত্তা হিসেবে দেখো আর তাদের দিব্যতাকে স্বীকার করে তাদের দিকে তাকাও, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু যখন তুমি এমন কার্মার ঢেউ আঁকড়ে ধরেছ যা তাদের সারসত্তা নয়, তখন সেটা অন্যজনের সমস্যা নয়; তার মানে, যে আঁকড়ে ধরেছে, তার মধ্যেও একটা অনুরূপ মন্দ কারণ লুকিয়ে ছিল।
স্পন্দনের ধর্মই এমন যে কেবল একই রকম সুরই একে অন্যের সঙ্গে অনুরণিত হয়।
তবু সবাই ভাবে অন্যরা খারাপ আর তারা নিজেরা নয়।
আসল সত্যি বলতে, যখন তুমি কোনো কিছুর ওপর দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত করে তা নিয়ে ভাবো, তখন তুমি নিজের ভেতরে যা আছে তা টেনে বের করে দেখছ, অন্যদের ওপর তা প্রক্ষেপ করে সেখানে দেখছ। (চলবে)






