বেঁচে থাকতেই নবজন্মের অভিজ্ঞতা লাভ করতে – ৪
প্রকাশের তারিখ হালনাগাদের তারিখ
(আগের বারের পর থেকে)
সময় প্রচণ্ড গতিতে বদলে যাচ্ছে
সমগ্র পৃথিবীর জগৎ যখন এক মহা রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এমন যুগে কিছু মানুষ নিজেদের বেড়ে ওঠা স্পষ্টভাবে অনুভব করতে না-ও পারে।
একটা ছবি দিয়ে বললে, তার কারণ বর্তমান যুগ হলো “এমন এক যুগ যখন সবাই একসঙ্গে বুলেট ট্রেনে চলেছে।”
চোখ যখন কেবল বুলেট ট্রেনের ভেতরে কী হচ্ছে তার দিকে, তখন কামরার মধ্য দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে যাচ্ছে বলে মনে হয় এমন কেউ নেই, তাই না?
কারণ সবাই একসঙ্গে একই গতিতে, ধরো ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটারে সমানভাবে চলছে।
কিন্তু জানালার বাইরে তাকালে হঠাৎ অনুভব করতে পারো যে তোমরা সবাই প্রচণ্ড গতিতে চলছ, তাই না?
বারবার বলব: বর্তমান যুগ ঠিক সেই সময়ের মাঝখানে, যখন সব বস্তুগত আর আধ্যাত্মিক স্পন্দন ক্রমেই আরও আধ্যাত্মিক হয়ে উঠছে, তাই সূক্ষ্ম স্তরে প্রত্যেকটির নবায়নের গতি দশ-বিশ বছর আগের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
তার মানে হলো, চাক বা না চাক, সবকিছুকে নবজন্ম নিতেই হবে।
এমন যুগের মাঝে এমন একটা জিনিস আছে যা অস্বাভাবিকভাবে মহাবিশ্বের কার্যপ্রণালীর বিরুদ্ধে যায়।
এতক্ষণে জানো সেটা কী, তাই না?
ঠিক তাই: দেহধারী মানুষের চিন্তা।
পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখা সব জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে কেবল মানবজাতিই মহাবিশ্বের স্বাভাবিক কার্যপ্রণালীর বিরুদ্ধে গিয়ে বাঁচে।
খনিজ, বাতাস, জল, আগুন, প্রাণী আর উদ্ভিদ: এদের কোনোটাই মহাবিশ্বের গতিবিধির বিরুদ্ধে যায় না, এদের মাঝে কেবল বস্তুগত দেহকে আঁকড়ে থাকা মানবজাতির চিন্তাই বিদ্রোহী বয়সের কিশোর-কিশোরীর মতো বাধা দেয়।

মহাবিশ্বের কার্যপ্রণালীর অংশ বহন করা “দিব্য মানবজাতির একজন” হয়ে নবজন্ম নেওয়া তোমার প্রতি
এইমাত্র যা বললাম তা একটা সত্য, তার বেশিও নয়, কমও নয়।
এটা পৃথিবীকে ঘিরে থাকা বর্তমান পরিস্থিতি আর মানবজাতির এই মুহূর্তের অবস্থা।
এইমাত্র বললাম “মানবজাতির এই মুহূর্তের অবস্থা,” তাই না?
এই কথাটা কী বোঝায়, ভালো করে ভেবে দেখো।
এটা দেখায় যে দেহধারী মানবজাতির চিন্তা সসীম জিনিস।
তোমার কি মনে হয় মানবজাতির চিন্তা চিরকাল থেকে যাবে আর টিকে থাকবে?
যদি তা হতো “প্রাণের আলোর জগতে ফিরে যাওয়া আর মহাবিশ্বের কার্যপ্রণালীর অংশ বহন করা দিব্য মানবজাতির প্রকাশিত চেতনা,” তাহলে আলাদা কথা, কিন্তু দেহধারী মানুষের চিন্তা যতই নিজের স্বাধীনতা জাহির করে লড়ুক, সমগ্র মহাবিশ্বের গতিবিধির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা চিন্তার একটা সীমা আছে।
কোনো এক সময়ে সবাই নিজের সম্পর্কে সত্য স্পষ্টভাবে দেখার সময়ে পৌঁছাবে।
প্রশ্ন কেবল আগে আর পরের।
কিন্তু মহাবিশ্ব থেকে দেখলে, কেউ আগে টের পাক বা পরে, সবই প্রায় এক, প্রায় কোনো পার্থক্যই নেই।
দূর পূর্বজন্মগুলোর ভালো চিন্তার সঞ্চয়ের মধ্য দিয়ে তুমি সৌভাগ্যক্রমে একেবারে শেষ মুহূর্তের ঠিক আগে জেগে উঠে বেঁচে থাকতেই নবজন্ম নিতে পেরেছ।
নবজন্ম নেওয়া তুমি এখন থেকে যা করবে তা হলো জগৎকে দেখানো, নতুন যুগ সৃষ্টি করা মানবজাতি কেমন হওয়ার কথা।
নিজের চেতনায়, বলা শব্দে আর অবিরাম আচরণে এক পবিত্র অনুরণন প্রকাশ করো।
তোমার সেই চিন্তা, কথা ও কাজ হয়ে উঠবে “প্রাণের আলো থেকে বিচ্ছুরিত এক প্রবল চৌম্বকশক্তি,” আর একসময় এখনো না জাগা অনেক মানুষের হৃদয় টেনে নেবে।
কারণ “তোমার আকার আর রূপে থাকা প্রাণের আলো” এদিক-ওদিক ছুটে বেড়ানো পথহারা মানবজাতির জন্য শেষ আশ্রয় হয়ে উঠবে, “অন্ধকারে এক বাতিঘর” বা “ঘুটঘুটে অন্ধকারে এক দিকচিহ্ন”-এর মতো।
এখন তোমাকে যা করতে হবে তা হলো স্বার্থকে পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে সমগ্রের সেবা করা।
যতক্ষণ এভাবে বাঁচো, সমাজের এক কোণে ছোট হয়ে বাঁচা মানুষও প্রাণের আলোকে পুরোপুরি জ্বলতে দিয়ে বড় হয়ে বাঁচতে পারে।
(সমাপ্ত)






