বাঁচিয়ে রাখা একজন হয়ে বাঁচা – ৬
প্রকাশের তারিখ হালনাগাদের তারিখ
(আগের বারের পর থেকে)
তুমি যা দেখেছ, শুনেছ, ছুঁয়েছ, গন্ধ পেয়েছ, স্বাদ নিয়েছ….
সেগুলোতে যদি তোমার হৃদয় নড়ে ওঠে, তাহলে হৃদয় নড়ে ওঠার কারণ তোমার নিজের মধ্যেই।
সেই চিন্তাগুলো তুমি যা দেখেছ, শুনেছ, ছুঁয়েছ ইত্যাদি সম্পর্কে তুমি নিজেই ভেবেছ; অন্য কিছু তোমাকে দিয়ে তা ভাবায়নি।
তোমার মনে হতে পারে, “এত স্পষ্ট কথা বলার দরকার কী?” কিন্তু এটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তোমার পঞ্চইন্দ্রিয়কে ছোঁয়া বস্তুগুলো তোমাকে দিয়ে কিছু ভাবায় না; তোমার চেতনাই যে বস্তু দেখেছে সে সম্পর্কে কিছু ভাবছে।
পঞ্চইন্দ্রিয়কে ছোঁয়া বস্তু সম্পর্কে কিছু ভাবার এই কৌশলটা বুঝলে মানুষ পথও হারাবে না, দুশ্চিন্তাও করবে না।
অনেক মানুষ এটাকে কেবল অস্পষ্টভাবে উপলব্ধি করত বলেই তারা দুই মেরুর খাঁচা (দ্বৈত বিরোধের জগৎ) থেকে বেরোতে পারেনি।
এটা আমি প্রায়ই দিই এমন একটা উদাহরণ, কিন্তু এমন সময় আসে যখন কয়েকজন মানুষ একজনের দিকে তাকায়, আর একজন ভাবে, “ওই মানুষটা ভালো মানুষ,” আবার আরেকজন ভাবে, “ওই মানুষটাকে কিছুতেই পছন্দ করতে পারি না।”
এটা যেন কয়েকজন মানুষ একটা নির্দিষ্ট রঙের দিকে তাকিয়ে প্রত্যেকে তা আলাদা দেখছে (কারও কাছে লাল, কারও কাছে নীল, কারও কাছে কালো, ইত্যাদি)।
এমন কেন হয়? কারণ তারা অহংয়ের ছাঁকনির মধ্য দিয়ে জগৎ দেখছে।

দীর্ঘকাল ধরে আমরা মানবজাতি ভৌতদেহকেই আমি, তুমি আর ওই মানুষটা বলে দেখেছি।
কারণ মহাবিশ্বের সমান প্রসারিত হতে পারা এক চেতনাকে আমরা এত সেন্টিমিটার লম্বা আর এত কিলোগ্রাম ওজনের এক ভৌতদেহের ভেতরের কিছুতে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছিলাম।
কিন্তু আমি সবসময় যেমন বলি, মানুষের সত্য এমন ক্ষুদ্র অস্তিত্ব নয়।
আমাদের মানুষের চেতনার উৎসে আছে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা আর চালানো মহাশক্তি, মহাপ্রজ্ঞা।
কারণ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা উৎস-চেতনা নিজের উদ্দিষ্ট মহাসমন্বয়ের জগৎ সৃষ্টির কর্তৃত্ব প্রতিটি গ্রহের মানবজাতির সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে।
সেই সত্য ভুলে গিয়েছিলাম বলে মানবজাতি নিজেকে আর অন্যদের আলাদা সত্তা বলে উপলব্ধি করেছিল, আর একেবারে ভুলে গিয়েছিল যে আমাদের নিজেদের প্রাণের মতো ঠিক একই শক্তি প্রকৃতি আর জীবন্ত প্রাণীদের মধ্য দিয়েও বয়ে চলে।
তবে ভুল বলে মনে হওয়া পৃথিবীর মানুষের চিন্তা, কথা ও কাজও ছিল গ্রহের বিকাশের প্রক্রিয়ায় গেঁথে দেওয়া মহাবিশ্বের পরিকল্পনা।
তাই আত্মসমীক্ষা করো, হ্যাঁ, কিন্তু অনুশোচনার কোনো দরকার নেই।
সত্যকে পুরোপুরি ভুলে গিয়ে বাঁচার যুগ এরই মধ্যে শেষ।
এখন থেকে পৃথিবীর মানবজাতি প্রাণের সত্যকে ভৌতদেহের চেতনায় স্থাপন করে স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারে।
(চলবে)



